Thursday, 2 September 2021

কসকনকপুর ইউনিয়নের পুকরা গ্রামের ময়নুল হকের মেয়ে রাহেলার রহস্যজনক মৃত্যু।

জকিগঞ্জে গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যু: স্বামী আটক

উপজেলার কসকনকপুর ইউনিয়নের ফুকরা গ্রামের ময়নুল হকের মেয়ে রাহেলা আক্তার (২৪) বছর দেড়েক আগে বিয়ে হয় একই উপজেলার বাবুর বাজার সংলগ্ন সুন্দরারচক গ্রামের আতাউর রহমান (আতা দর্জি)র ছেলে ছাইফুর রহমানের সাথে। বিয়ের কিছুদিন পর থেকে স্বামীর নির্যাতনের স্বীকার রাহেলা চলে যান বাবার বাড়িতে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে প্রায় চার মাস আগে আবারো আসেন স্বামী ছাইফুর রহমানের সংসারে। রাহেলা আক্তারের ৬ মাস বয়সী একটি  কন্যা সন্তান রয়েছে।
 ময়নুল হক জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে রাহেলার স্বামী ছাইফুরের মাধ্যমে রাহেলাকে জকিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে পর দিন সকালে অবস্থা বেগতিক দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। বৃহস্পতিবার বার সকালে চিকিৎসারত অবস্থায় রাহেলা মৃত্যু বরণ করেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল হালিমসহ রাহেলার আত্মীয়রা জানান, স্বামীর বাড়ির লোকজনের নির্যাতনে তার মৃত্যু হয়েছে। নির্যাতনের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে আমাদেরকে কোন কিছু জানানো হয়নি। গোপন সংবাদের ভিত্তিত্বে রাহেলাকে মেডিকেল ভর্তি করা হয়েছে জানতে পেরে সুন্দরারচক গেলে ছাইফুরের স্বজনরা আমাদেরকে কোন কিছু না বলে গালিগালাজ করে তাড়িয়ে দেন। বৃহস্পতিবার সকালে তার মৃত্যু হয়েছে।
জকিগঞ্জ থানার ওসি আবুল কাশেম খান জানান, এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। সাইফুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। ছেলে পক্ষ বলছে মেয়ে বিষ খেয়েছে। মেয়ের বাবার অভিযোগ তার মেয়েকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পেলে বিষয়টি জানা যাবে।

Tuesday, 31 August 2021

ট্যুরিস্টদের জন্য দুবাই এর দরজা খুলে দেয়া হলেও র‍্যাপিড PCR টেস্ট জনিত কারণে বিপদে বাংলাদেশীরা

এ মাসেই পৃথিবীর সব দেশের পর্যটকের জন্য খুলে যাচ্ছে উপসাগরীয় দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দরজা।
তবে এক্ষেত্রে শর্ত একটাই। তা হলো, যারা করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন নিয়েছেন, শুধু তাদেরকে ট্যুরিস্ট ভিসা দেওয়া হবে।
তবে বাংলাদেশের বিমানবন্দরে রেপিড পিসিআর ল্যাব স্থাপন না করায় এখন পর্যন্ত বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য স্বাভাবিকভাবেই তা প্রযোজ্য নয়।
দেশটির সংবাদ সংস্থার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, টিকা নেয়া পর্যটকদের ভিসা দেয়া শুরু হবে ৩০শে আগস্ট, সোমবার থেকে। এর ফলে আগে যেসব দেশের বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল আমিরাত, সেসব দেশের মানুষও সেখানে যেতে পারবেন। 
যাদেরকে ভিসা দেয়া হবে, তারা আমিরাতে পৌঁছার পর করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা করাতে হবে। 
উপরন্তু পুরো ডোজ টিকা নেয়া পর্যটকরা তাদের টিকার সনদ নিবন্ধিত করতে পারবেন আইসিএ প্লাটফর্মে অথবা আল হোসন অ্যাপের (AL Hosn App) মাধ্যমে।এর ফলে টিকা নেয়া ব্যক্তিরা একটু বেশিই সুবিধা পাবেন। গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সেক্টর এবং জনস্বাস্থ্যের মধ্যে একটি ভারসাম্য সৃষ্টির জন্য এমন কৌশল নিয়েছে আমিরাত।
এ ছাড়া অর্থনীতিতে যে ক্ষতি হয়েছে তা পূরণের জন্য এবং অর্থনৈতিক খাতকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য এ উদ্যোগ সহায়ক হবে।সংযুক্ত আরব আমিরাত সাধারণত ৩০ দিন বা ৯০ দিনের জন্য পর্যটক ভিসা দিয়ে থাকে। এ ছাড়া যেসব মানুষ আমিরাতে পৌঁছামাত্র ভিসা পাওয়ার যোগ্য নন, তাদের ক্ষেত্রে এই ভিসার জন্য আবেদন করতে হয়।
এ ছাড়া ২১ শে মার্চ সংযুক্ত আরব আমিরাত সব দেশের নাগরিকদের জন্য ৫ বছরের জন্য মাল্টিপল পর্যটক ভিসা অনুমোদন করেছে।
এ মাসের শুরুতে ভারত, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া ও অন্য কিছু দেশ থেকে ট্রানজিট যাত্রীদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে তারা। আন্তর্জাতিক ভ্রমণের এক প্রাণকেন্দ্র হলো সংযুক্ত আরব আমিরাত। তারা দক্ষিণ এশিয়া এবং আফ্রিকার অনেক দেশের বিরুদ্ধে কয়েক মাস ধরে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছিল।এদিকে নিজ কর্মস্থলে ফিরতে দ্রুত দেশের বিমানবন্দরে রেপিড পিসিআর ল্যাব স্থাপন করার দাবি জানিয়েছেন দেশে আটকা পড়া আমিরাত প্রবাসীরা।

Tuesday, 29 December 2020

চৈতী হাওয়া লেখক কাজী নজরুল ইসলাম।

হারিয়ে গেছ অন্ধকারে-পাইনি খুঁজে আর,
আজ্‌কে তোমার আমার মাঝে সপ্ত পারাবার!
আজ্‌কে তোমার জন্মদিন-
স্মরণ-বেলায় নিদ্রাহীন
হাত্‌ড়ে ফিরি হারিয়ে-যাওয়ার অকূল অন্ধকার!
এই -সে হেথাই হারিয়ে গেছে কুড়িয়ে-পাওয়া হার!

শূন্য ছিল নিতল দীঘির শীতল কালো জল,
কেন তুমি ফুটলে সেথা ব্যথার নীলোৎপল?
আঁধার দীঘির রাঙলে মুখ,
নিটোল ঢেউ-এর ভাঙলে বুক,-
কোন্‌ পূজারী নিল ছিঁড়ে? ছিন্ন তোমার দল
ঢেকেছে আজ কোন্‌ দেবতার কোন্‌ সে পাষাণ-তল?

অস্ত-খেয়ার হারামাণিক-বোঝাই-করা না’
আস্‌ছে নিতুই ফিরিয়ে দেওয়ার উদয়-পারের গাঁ
ঘাটে আমি রই ব’সে
আমার মাণিক কই গো সে?
পারাবারের ঢেউ-দোলানী হান্‌ছে বুকে ঘা!
আমি খুঁজি ভিড়ের মাঝে চেনা কমল-পা!

বইছে আবার চৈতী হাওয়া গুম্‌রে ওঠে মন,
পেয়েছিলাম এম্‌নি হাওয়ায় তোমার পরশন।
তেম্‌নি আবার মহুয়া-মউ
মৌমাছিদের কৃষ্ণ-বউ
পান ক’রে ওই ঢুল্‌ছে নেশায়, দুল্‌ছে মহুল বন,
ফুল-সৌখিন্‌ দখিন হাওয়ায় কানন উচাটন!

প’ড়ছে মনে টগর চাঁপা বেল চামেলি যুঁই,
মধুপ দেখে যাদের শাখা আপ্‌নি যেত নুই।
হাস্‌তে তুমি দুলিয়ে ডাল,
গোলাপ হ’য়ে ফুটতো গাল
থর্‌কমলী আঁউরে যেত তপ্ত ও-গাল ছুঁই!
বকুল শাখা-ব্যকুল হ’ত টলমলাত ভুঁই!

চৈতী রাতের গাইত’ গজল বুলবুলিয়ার রব,
দুপুর বেলায় চবুতরায় কাঁদত কবুতর!
ভুঁই- তারকা সুন্দরী
সজনে ফুলের দল ঝরি’
থোপা থোপা লা ছড়াত দোলন-খোঁপার’ পর।
ঝাজাল হাওয়ায় বাজত উদাস মাছরাঙার স্বর!


পিয়ালবনায় পলাশ ফুলের গেলাস-ভরা মউ!
খেত বঁধুর জড়িয়ে গলা সাঁওতালিয়া বউ!
লুকিয়ে তুমি দেখতে তাই,
বলতে, ‘আমি অমনি চাই!
খোঁপায় দিতাম চাঁপা গুঁজে, ঠোঁটে দিতাম মউ!
হিজল শাখায় ডাকত পাখি “ বউ গো কথা কউ”

ডাকত ডাহুক জল- পায়রা নাচত ভরা বিল,
জোড়া ভুর” ওড়া যেন আসমানে গাঙচিল
হঠাৎ জলে রাখত্‌ে পা,
কাজলা দীঘির শিউরে গা-
কাঁটা দিয়ে উঠত মৃণাল ফুটত কমল-ঝিল!
ডাগর চোখে লাগত তোমার সাগর দীঘির নীল!

উদাস দুপুর কখন গেছে এখন বিকেল যায়,
ঘুম জড়ানো ঘুমতী নদীর ঘুমুর পরা পায়!
শঙ্খ বাজে মন্দিরে,
সন্ধ্যা আসে বন ঘিরে,
ঝাউ-এর শাখায় ভেজা আঁধার কে পিঁজেছে হায়!
মাঠের বাঁশী বন্‌-উদাসী ভীম্‌পলাশী গায়অ

বাউল আজি বাউল হ’ল আমরা তফাতে!
আম-মুকুলের গুঁজি-কাঠি দাও কি খোঁপাতে?
ডাবের শীতল জল দিয়ে
মুখ মাজ’কি আর প্রিয়ে?
প্রজাপতির ডাক-ঝরা সোনার টোপাতে
ভাঙা ভুর” দাও কি জোড়া রাতুল শোভাতে?

বউল ঝ’রে ফ’লেছ আজ থোলো থোলো আম,
রসের পীড়ায় টস্‌টসে বুক ঝুরছে গোপাবজাম!
কামরাঙারা রাঙল ফের
পীড়ন পেতে ঐ মুখের,
স্মরণ ক’রে চিবুক তোমার, বুকের তোমার ঠাম-
জামর”লে রস ফেটে পড়ে, হায়, কে দেবে দাম!

ক’রেছিলাম চাউনি চয়ন নয়ন হ’তে তোর,
ভেবেছিলুম গাঁথ্‌ব মালা পাইনে খুঁজে ডোর!
সেই চাহনি নীল-কমল
ভ’রল আমার মানস-জল,
কমল-কাঁটার ঘা লেগেছে মর্মমূলে মোর!
বক্ষে আমার দুলে আঁখির সাতনরী-হার লোর!


তরী আমার কোন্‌ কিনারায় পাইনে খুঁজে কুল,
স্মরণ-পারের গন্ধ পাঠায় কমলা নেবুর ফুল!
পাহাড়তলীর শালবনায়
বিষের মত নীল ঘনায়!
সাঁঝ প’রেছে ঐ দ্বিতীয়ার-চাঁদ-ইহুদী-দুল!
হায় গো, আমার ভিন্‌ গাঁয়ে আজ পথ হ’য়েছে ভুল!

কোথায় তুমি কোথায় আমি চৈতে দেখা সেই,
কেঁদে ফিরে যায় যে চৈত-তোমার দেখা নেই!
কন্ঠে কাঁদে একটি স্বর-
কোথায় তুমি বাঁধলে ঘর?
তেমনি ক’রে জাগছে কি রাত আমার আশাতেই?
কুড়িয়ে পাওয়া বেলায় খুঁজি হারিয়ে যাওয়া খেই!

পারাপারের ঘাটে প্রিয় রইনু বেঁধে না’,
এই তরীতে হয়ত তোমার প’ড়বে রাঙা পা!
আবার তোমার সুখ-ছোঁওয়ায়
আকুল দোলা লাগবে না’য়,
এক তরীতে যাব মোরা আর-না-হারা গাঁ
পারাপারের ঘাটে প্রিয় রইনু বেঁধে না’।।

Friday, 4 September 2020

কিভাবে বিদেশীরা বাংলাদেশের ভিসা পান

প্রতিটি দেশের মতো বাংলাদেশে আসতে চাইলে বিদেশি নাগরিকদের ভিসা নিতে হয়। ভিসার মাধ্যমে একটি সরকার কোনও বিদেশি নাগরিককে দেশে ঢোকার অনুমতি দেয় এবং এই ভিসা বিভিন্ন ক্যাটাগরির হয়। বাংলাদেশ মোট ৩০টি ক্যাটাগরিতে ভিসা দিয়ে থাকে। এরমধ্যে রাষ্ট্র বা সরকার প্রধান, মন্ত্রী বা সমমর্যাদার ব্যক্তিরা ‘এ’ ক্যাটাগরির ভিসা পান। সরকারি প্রতিনিধিদলের সদস্যরা পান ‘এ১’ এবং জাতিসংঘ বা এর কোনও সংস্থা, আন্তর্জাতিক বা আঞ্চলিক সংস্থার কর্মকর্তাদের দেওয়া হয় ‘এ২’ ক্যাটাগরির ভিসা। আবার ‘এ২’ ভিসাপ্রাপ্তদের পরিবারের সদস্যরা যদি বাংলাদেশে আসতে চায় তবে তাদের দেওয়া হয় ‘এফএ২’ ভিসা।

উন্নয়ন সংস্থা যেমন বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে কর্মরত বিশেষজ্ঞদের ‘এ৩’ ভিসা দেওয়া হলেও অন্য বিশেষজ্ঞদের দেওয়া হয় ‘ই’ ক্যাটাগরির ভিসা। এই বিশেষজ্ঞরা সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে পারে।

ব্যবসায়ীদের দেওয়া হয় ‘বি’ ভিসা কিন্তু পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের দেওয়া হয় ‘পিআই’ ভিসা। ছাত্রদের দেওয়া হয় ‘এস’ ভিসা, সাংবাদিকদের ‘জে’ ভিসা, খেলোয়াড়দের দেওয়া হয় ‘পি’ ভিসা এবং কূটনীতিকদের দেওয়া হয় ‘ডি’ ভিসা। আবার কূটনীতিকদের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে যারা কাজ করে তাদের দেওয়া হয় ‘ডিএ’ ভিসা।

সাধারণ পর্যটকদের ‘টি’ ভিসা দেওয়া হলেও তাবলিগ বা অন্যান্য ধর্মের মানুষ যারা ধর্মীয় পর্যটনে বাংলাদেশে আসেন তাদের দেওয়া হয় ‘এম’ ভিসা। বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদিত যেকোনও প্রতিষ্ঠানে গবেষণা, ইন্টার্নশিপ বা প্রশিক্ষণের জন্য আগমনকারী বিদেশিদের দেওয়া হয় ‘আর’ ভিসা।

আবেদন করলেই কি ভিসা পাওয়া যায়?

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘ভিসা একটি সুবিধা (প্রিভিলেজ) এবং এটি কোনও অধিকার নয়। যেকোনও বিদেশিকে সরকার ভিসা নাও দিতে পারে। ভিসা না দিলে কেন দেওয়া হয়নি সে ব্যাখ্যা দিতেও সরকার বাধ্য নয়। অনেক ক্ষেত্রে কাগজপত্রের ঘাটতি থাকলে ভিসা আবেদনকারীকে বলা হয় ওই কাগজ জমা দেওয়ার জন্য।’

তিনি বলেন, আবার অনেক সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনও একটি নির্দিষ্ট দেশের নাগরিককে কম ভিসা দেওয়ার নীতিও নেওয়া হয়। ইসরায়েলে জন্মগ্রহণ করেছে কিন্তু বর্তমানে অন্য কোনও দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে ভিসা আবেদনপত্র ঢাকায় বিবেচনা করা হয় বলে তিনি জানান।

ভিসা পেলেই বাংলাদেশে ঢোকা যায়?

মোটেই না। ভিসা পাওয়ার পরেও বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন বিদেশি নাগরিককে বের হবার অনুমতি নাও দিতে পারে এবং পরবর্তী সুবিধাজনক ফ্লাইটে ফেরত পাঠাতে পারে। এ বিষয়ে আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, সার্কভুক্ত দেশগুলোতে সার্ক ভিসা চালু আছে। যাদের সার্ক ভিসা দেওয়া হয় তাদের এই ৮টি দেশে ভ্রমণ করার সময়ে ভ্রমণকারী দেশের কাছ থেকে ভিসা নেওয়ার প্রয়োজন হয় না।

তিনি বলেন, একবার বিমানবন্দর থেকে আমাদের জানানো হলো পাকিস্তান থেকে একজন সংগীত শিল্পী সার্ক ভিসা নিয়ে ঢাকায় এসেছে। তাকে যখন ভ্রমণের উদ্দেশ্য জিজ্ঞাসা করা হয়েছে তখন জানায় সে তার গার্লফ্রেন্ডের সঙ্গে দেখা করতে এসেছে। তাকে পরের ফ্লাইটেই আবার পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়।

Sunday, 30 August 2020

জকিগঞ্জের লুৎফুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের দূর্ণীতি নিয়ে উপজেলা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে স্মারক লিপি প্রদান।

বিগত এস এস সি রেজাল্ট প্রকাশের পর ফেইসবুকে একই এলাকার প্রবাসী মকবুল হুসেইন স্কুলের শিক্ষার মান নিয়ে একটা স্টেটাস দিলে অধ্যক্ষ মাজেদ আহমেদের অশালীনকমেন্ট আমাদের অনেক কষ্ট দিয়েছে।

 জকিগঞ্জে লুৎফুর রহমান স্কুল এন্ড কলেজের দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে গত ২৭.০৮.২০ ইং তারিখে এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে স্মারক লিপি প্রদান করা হয়।ইউ,এন,ও এর অনুপস্থিতিতে স্মারক লিপি গ্রহণ করেন অফিসের কর্তব্যরত এক কর্মকর্তা।জানা যায় দীর্ঘ দিন থেকে নির্বাচন বিহীন অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন অধ্যক্ষ জনাব, মাজেদ আহমদ উনার নিজের পছন্দের লোক দিয়ে ম্যানেজিং কমিটি গঠন করে আসছেন, সেজন্য এলাকার সাধারণ মানুষ প্রতিষ্ঠানের কুন বিষয়ে কথা বললে ম্যানেজিং কমিটির সবাই এক হয়ে লাঞ্চিত করেন। মান- সম্মানের ভয়ে অনেকেই মুখ বন্ধ করে থাকতে বাধ্য হোন।বিগত বছর প্রাক্তন অধ্যক্ষ মাজেদ আহমদ এর চাকুরির মেয়াদ শেষ হলেও উনি বহাল তবিয়তে আছেন এবং উনার নিজের পছন্দের লোক অবৈধভাবে প্রধান শিক্ষকের চেয়ারে বসান।এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের অনেকের সাথে কথা বলে জানা যায়,উনাদের দাবী হলো অতি শীঘ্রই ম্যানেজিং কমিটি বিলুপ্ত করে নির্বাচনের মাধ্যমে অভিভাবকদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে উনাদের আকুল আবেদন যে,দ্রুত সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

Monday, 29 June 2020

সিলেটের ইফজাল হত্যার বিচার চায় সিলেট বাসী

ইফজাল আমার এলাকা তথা সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার সন্তান। এই তরুন বয়সে রহস্যজনকভাবে তার মৃত্যু মেনে নেয়া কষ্টকর। তার এমন বিদায়ে যেহেতু রহস্য আছে, আমি চাই সেই রহস্য উদঘাটিত হোক। রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত অথরিটির মাধ্যমে সুষ্ঠ তদন্ত হোক। তদন্তের মাধ্যমে যদি প্রমাণিত হয় যে এটা একটা নির্মম হত্যাকান্ড, তাহলে অবশ্যই এর ন্যায় বিচার করতে হবে। 
সাধারণত পুলিশের দায়িত্ব হচ্ছে ইনভেস্টিগেশন করা। তাছাড়া সাংবাদিকরাও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করে থাকেন। যা পুলিশের জন্য সহায়ক ভুমিকা রাখে। এর বাইরে সোসাল মিডিয়ায় যা প্রচার করা হয় তার প্রকৃত অর্থে কোন ভেল্যু নেই। তবে প্রমাণ থাকার পরেও পুলিশ ইচ্ছে করে কোন ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে চাইলে তখন মাঠের আন্দোলনের পাশাপাশি সোসাল মিডিয়ায় সরব ভুমিকা অনেক কাজ দেয়। 

আসুন, সে সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করি। সোসাল মিডিয়ায় ইফজালের পরিবারকে জড়িয়ে এখন যা প্রচার করা হচ্ছে তা, যে কোন বিচারে সঠিক নয়। পরিবারের কেউ চায়না তার আপনজন এভাবে দুনিয়া থেকে চলে যাক। মা তো নয়ই। পরিবারের কেউ জড়িত হলে অবশ্যই তার বিচার হতে হবে। তবে শেষমেশ পরিবারের কেউ জড়িত না থাকলে সোসাল মিডিয়ায় কেউ কেউ এখন যা প্রচার করছেন তা ইফজালের শোক সন্তপ্ত পরিবারের জন্য বিশেষ করে তার মায়ের জন্য 'মরার উপর খাড়ার ঘা' হিসেবে দেখা দেবে। কাজেই একটা জুলুমের প্রতিকার চাইতে গিয়ে যেন আমরা আরেকটা জুলুম করে না ফেলি সে দিকে খেয়াল রাখা ন্যায় বিচারের স্বার্থেই জরুরী । 

লেখক আবু সালেহ 

Tuesday, 23 June 2020

সিলেটের একজন সাবেক মন্ত্রীর কষ্টের কাহিনী হৃদয়ে লাগে।

সরকারের সাবেক একজন মন্ত্রী। এক সময় বিদেশে ছিলেন। পড়াশুনা করা লোক। লেখালেখিও করেন। জাতীয়-আন্তর্জাতিক সংস্থার পদে ছিলেন বিদেশে। তখন শেষ জীবনে থাকার জন্যে ঢাকার ধানমন্ডিতে একটা বাড়ি কেনেন।
ওপরে নীচে দশ বারোটি রূম। অনেক দিন ধরে বাড়িটি নিজের মতো করে সাজাচ্ছিলেন। বিদেশে থাকা স্বত্ত্বেও বাড়িটি কখনও তিনি ভাড়া দেননি। যখন মন্ত্রী হলেন তখন থাকতেন সরকারি বাংলোয়।
ওই সময় বাড়িটায় থাকতেন তাঁর ছেলে শাহেদ। কিন্তু সরকারি ক্ষমতার বাইরে যাওয়ায় পর এই সাবেক দাপুটে মন্ত্রী পড়লেন ভিন্ন এক সমস্যায়। যে সমস্যা তিনি বাইরে কারও সঙ্গে শেয়ার করতেও পারেননা।
কারন সমস্যা তাঁর ছেলে শাহেদ। বাবা মন্ত্রী থাকতে বাবা’র নাম ভাঙ্গিয়ে নানাকিছু করেছে। কিন্তু এখন বাবার মন্ত্রিত্ব নাই দেখে সে বাবাকে অচ্ছুত ক্ষমতাহীন ভাবতেও শুরু করে দেয়! বাবাকে তাঁর নিজের বাড়িতে উঠতে দিতে চায় না।
তার বক্তব্য, দশ বছর ধরে বাড়িটায় ফ্যামিলি নিয়ে থাকতে থাকতে সে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। কাজেই বাবা-মা তথা বুড়োবুড়ির এখন আর এ বাড়িতে আসার দরকার নেই! দরকার হলে সে বাবাকে অন্য কোথাও বাড়ি ভাড়া করে দেবে।
আলীশান বাড়ি হবে সেটি। বাবা-মা’কে দেখাশুনা রান্না করে খাওয়ানোর জন্যে রেখে দেবে দু’জন কাজের লোক। এরপরও বুড়ো-বুড়ি যাতে এ বাড়ির দিকে না আসেন। এ নিয়ে মানসিক বিড়ম্বনায় পড়েন সাবেক মন্ত্রী।
না কিছু কইতে পারেন। না কিছু সইতে পারেন। অন্যদিকে তিনি যে সরকারি বাংলোয় থাকতেন সে বাড়ি অন্য মন্ত্রীর জন্যে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সে বাড়িতে নতুন মন্ত্রীর পরিবার উঠবে। তারা তাগাদা দিচ্ছে।
অথচ সাবেক মন্ত্রীর বড় আশা ছিল ছেলে-ছেলের বউ, নাতি-নাতনি নিয়ে এক বাড়িতে থাকবেন। এরজন্যে তিনি এত বড় বাড়ি করেছিলেন। কিন্তু ছেলে তাঁকে তাঁর স্বপ্নের নিজের বাড়িতে উঠতে দিতে চায় না!
উল্টো তাঁকে পাঠাতে চায় এক রকম বৃদ্ধাশ্রমে! সাবেক মন্ত্রী তাঁর ছেলেবেলা, বাবা-মা’র সঙ্গে সন্তানের সম্পর্ক, তাদের যৌথ পরিবারের আনন্দময় জীবনের কথা ভাবেন আর চোখ মোছেন। আগে সবাই কি আনন্দে দিন কাটাইতেন।
বাড়িতে তার বাবা, দাদা সবাই মিলে এক সঙ্গে পাটি মিলিয়ে বসে খেতে বসতেন। তাঁর মা, বড় বোন, ভাবী কত যত্মে আদর করে তাদেরকে খাওয়াতেন। প্রথমে দাদা’র, এরপর বাবা’র প্লেটে খাবার দেয়া হতো।
পরিবারের পুরুষ মুরব্বিদের সিরিয়াল আগে। বড়মাছের মাথাটাও দেয়া হতো তাদের প্লেটে। মুরব্বিরা পরে সেটি সবাইকে ভাগ করে দিতেন। আগের সম্পন্ন পরিবারের নানান রেওয়াজও ছিল ভিন্ন।
প্রতিদিন রান্নার আগে বাড়ির বৌ অনুমতি নিতেন পরামর্শ করতেন শাশুড়ির সঙ্গে। কী পরিমান ভাত রান্না করবেন। কী কী তরকারি থাকবে। আর এখনকার সমাজ সংসার কেমন বদলে গেলো!
শাহেদকে বড় আদরে তারা বড় করেছেন। পড়াশুনা করিয়েছে ইংরেজি মাধ্যমে। বিদেশেও পড়িয়েছেন। সে ছেলের বয়সও এখন প্রায় পঞ্চাশ। বাবা মন্ত্রী থাকতে সে ধানমন্ডির বাড়িতেই ছিল।
মন্ত্রিত্ব থেকে সরে দাঁড়াবার পর যখন নিজের বাড়িতে উঠতে বাধা পেলেন ছেলের তখন বাধ্য হয়ে তিনি এক শীর্ষ কর্মকর্তার স্মরনাপন্ন হন। তারা ঠিক করলেন বিষয়টি গোপন রাখতে হবে।
সাবেক মন্ত্রী কান্না জড়িত কন্ঠে সেই কর্মকর্তাকে বলেন, “আমি এখন অবসরে। দলে কোন পদেও নেই। আমার আর বাকি জীবনে, কোন পদে যাওয়ার সম্ভাবনাও নেই। তাই তুমি যদি পারো আমাকে আমার বাড়িতে উঠিয়ে দাও।”
পরিকল্পনা মাফিক গোয়েন্দা বিভাগের লোকজন সাদা পোশাকে বাড়িটায় যান। সেখানে গিয়ে তারা শাহেদকে তাদের পরিচয় দেন। এরপর তারা তার বাবা সাবেক মন্ত্রীর জিনিসপত্র তাদের রূমগুলোয় গুছিয়ে তাদের তুলে দেন নিজের বাসায়।

ওই সময়ে সেখানে সেই কর্মকর্তার ফোন যায়। ফোনটি তাঁর, যিনি পুরো আয়োজনটি সাজিয়েছেন। লাউড স্পিকারে ফোনের কথাবার্তা শাহেদকে শোনানো হয়। “সব ঠিক আছে, তারপর বললেন আচ্ছা আচ্ছা, কোন ঝামেলা হয়নিতো,
না স্যার। ঠিকমত নিজের রুমে গিয়ে সবকিছু গুছিয়ে নিতে পেরেছেন?। তারপরে বললেন, আচ্ছা তুমি আমাকে চিন্তা থেকে মুক্ত করলে, তোমাকে অনেক ধন্যবাদ ব্যাপারটি যেন বাহিরের লোক না জানে।”

মিশন সাকসেসফুল হবার পরপরই আরেকটা টেলিফোন আসলো, এবার লাউডস্পিকারে ওপাশ থেকে শোনানো হয়, স্যার মিনিস্টার স্যারকে দোতালার মাস্টার বেডরুমে উনার সবকিছু সাজিয়ে গুছিয়ে দিয়ে এসেছি।
ওনার জন্য একটা রিডিং রুম রেডি করে ওনার যাবতীয় বইপত্রসহ সবকিছু গুছিয়ে দিয়েছি, স্যার এইমাত্র ঘরে এসে ঢুকেছেন। আমরা আমাদের কাজ শেষ করেছি এখন চলে আসছি।
যে কর্মকর্তা এই কাজটি করেছেন তিনিও এখন একজন সাবেক আমলা। মিশন সাকসেসফুল হবার পর তিনি বলেছেন, এই জীবনে এই প্রথম সরকারের প্রশাসন যন্ত্র ব্যবহার করে, একটু ক্ষমতা দেখালাম’।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলেছিলাম, স্যারের ছেলে জানবে তোমরা কারা, কোন কিছু বলতেও পারবেনা আর সহ্য করতেও পারবে না। আর ছেলে যদি কিছু বলে, তাহলে শক্তি প্রয়োগ করবে।
তাকে কোন একটা ঘরে নিয়ে জানালা দরজা বন্ধ করে দিয়ে, জবাব দিয়ে দিতে বলবা যে, এটা তোর বাবার আশ্রয় ।” এরপর নির্বাক মুখোমুখি কিছুক্ষণ পরষ্পরের দিকে তাকিয়ে থাকা।
সাবেক মন্ত্রী আস্তে আস্তে বললেন, জীবনের এই পর্যায়ে নিজের মাথা গোঁজার স্বপ্নের শেষ আশ্রয়ের দখল নিতে হলো। আমাদের এই সাবেক মন্ত্রীর নাম আবুল মাল আব্দুল মুহিত। যিনি তাঁকে সহায়তা দিয়েছেন তিনি নজিবুর রহমান।
লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ( লেখাটি লেখকের ফেইসবুক থেকে নেওয়া)

http://sylhetwatch24.net/%e0%a6%b8%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%95-%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%9c%e0%a6%a8-%e0%a6%ae%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%8d/